ব্রেকিং নিউজ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক
২৩ মে ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

৪ মণের গরু হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, শুরু হয়নি বেচাকেনা

ঢাকার একমাত্র স্থায়ী গবাদিপশুর হাট গাবতলীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপারী ও গৃহস্থদের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো গরু বেচাকেনা পুরোপুরি শুরু হয়নি। ঈদুল আজহার মাত্র পাঁচদিন বাকি থাকলেও হাটে এখনো ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেকে গরুর দাম যাচাই-বাছাই করছেন এবং বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

শনিবার (২৩ মে) গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্যাপারীরা গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অনেক ঘাটাল এখনো খালি এবং পর্যাপ্ত গরু এসে পৌঁছায়নি। হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি সীমিত থাকায় কেনাবেচার তৎপরতা শুরু হয়নি।

বিক্রেতারা জানান, কোরবানির জন্য তিন মণ মাংস পাওয়া যায় এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর চার মণ মাংস মিলবে এমন গরুর দাম ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। গড়ে প্রতি মণ মাংসের দাম ৩২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতাকে গরু কিনে হাট থেকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়নি। বরং হাটে দর্শনার্থী, ইউটিউবার ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ঢাকায় গরু রাখার জায়গা সংকটের কারণে সাধারণত ঈদের দুদিন আগে কেনাবেচা বেশি জমে।

মিরপুর পল্লবী থেকে গাবতলী হাটে গরু দেখতে এসেছেন কাপড় ব্যবসায়ী হাজি মিরন মিয়া। সঙ্গে তার দুই সন্তানও রয়েছে। তিনি জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে এসেছেন এবং সেই বাজেট অনুযায়ী গরুর দাম যাচাই করছেন।

তিনি বলেন, এখন গরু কিনে রাখার সুযোগ নেই। তবে ব্যাপারীরা বর্তমানে দাম কিছুটা বেশি হাঁকছেন। তবে ঈদের আগ মুহূর্তে দাম কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে, হাটে বরাবরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ৪ থেকে ৬ মণ মাংস পাওয়া যায় এমন গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। এসব গরুর ক্ষেত্রে মাংসের দাম গড়ে ৩৫ হাজার টাকা মণ পড়ছে বলে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থেকে আসা ব্যাপারী শফি বিশ্বাস বলেন, ‘আমি গাবতলী হাটে ১৪টি দেশি ষাঁড় গরু এনেছি। প্রতিটি গরুতে প্রায় ৬ মণ মাংস পাওয়া যাবে। এসব গরুর দাম ২ লাখ ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে হাঁকা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, হাটে ক্রেতা একেবারেই কম। প্রতি মণ গরুর মাংসের দাম ৩৫ হাজার টাকা না হলে আমাদের লোকসানে পড়তে হবে। গরুর খাবারের দাম মানুষের খাবারের চেয়েও বেশি। পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা খরচও অনেক বেড়েছে।

 

গাবতলীর হাটে ভারতীয় সাদা বলদ গরু বিক্রির জন্য তুলতে দেখা গেছে। তবে এসব গরু সরাসরি ভারত থেকে সদ্য আনা নয়, প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে দেশে আনা হয়েছিল।

ব্যাপারীরা জানান, প্রথমে দেশে আনার সময় গরুগুলোর শরীরে শুধু হাড় ছিল। এরপর ধানের কুড়া, খেসারি, ভুট্টা, ধান ও ভুসিমিশ্রিত দানাদার খাবার খাইয়ে সেগুলো ধীরে ধীরে মোটাতাজা করা হয়। এখন এসব গরু দেশীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।

প্রতি ঈদ পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। প্রতিটি গরুতে প্রায় ৭ থেকে ৮ মণ মাংস পাওয়া যাবে বলে জানান বিক্রেতারা।

লক্ষ্মীপুরের ব্যাপারী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মজাদার বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে গরু এনে খামারে লালন-পালন করে মোটাতাজা করেছি। শুরুতে শুধু হাড় কিনেছিলাম, এখন এগুলো দেশি পরিবেশে বড় হয়েছে। অন্যান্য গরুর তুলনায় এসব ভারতীয় বলদের দামও তুলনামূলক কম।’

কোরবানিতে গরুর দাম কেমন হবে— এমন প্রশ্নে মজুমদার বলেন, ‘বর্তমানে কাঁচা ঘাস সহজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং খড়ের দামও অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল ও চিকিৎসা খরচসহ সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে। এবার লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চালান উঠলেই আলহামদুলিল্লাহ।’

এদিকে, বিভিন্ন হাটবাজারে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, পশুর দাম অনেক বেশি। অন্যদিকে, বিক্রেতারা বলছেন, খাদ্যসহ সব ধরনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সে তুলনায় পশুর দাম কমই রয়েছে।

 

বাগেররহাট মোল্লারহাটের আব্দুর রহিম ব্যাপারী। তিনি হাটে এবার ১৫টি গরু তুলেছেন দুদিন আগে। কিন্তু এখনো কোনো ক্রেতা মেলেনি। রহিম ব্যাপারী বলেন, গরুর কেউ দাম বলেনি। আজ দুদিন বসে আছি।

গাবতলী হাটের প্রবেশদ্বারেই বড় আকারের গরু রাখা হয়েছে। তবে এসব বড় গরুর খাটালে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সেখানে ক্রেতার চেয়ে ইউটিউবার ও টিকটকারদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

কুষ্টিয়া সদরের ব্যাপারী গোলাপ কসাই বলেন, ‘আমি ২৫টি গরু হাটে তুলেছি। প্রতিটি গরুতে প্রায় ৫ মণ মাংস পাওয়া যাবে। এসব গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।’

 

তিনি বলেন, এমনিতে সবসময় মাংসের মণ ৩২ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু ঈদের সময় ৩৫ হাজার টাকা মণ না হলে বিক্রি করে টিকতে পারা যায় না। ছিন্নির (ঈদ) গরু ৩৫ হাজার টাকা মণ না হলে পোষায় না। তিনদিন ধরে হাটে এলেও তেমন ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

ত্রিশালে বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা গ্রেফতার

কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ফুলবাড়ীয়ার কৃতি সন্তান আব্দুল করিম সরকার

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

“২০ বছরের অপেক্ষার অবসান: অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের”

আদালতে নেওয়া হয়েছে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে

৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রকাশ এনসিপির

যৌতুকের নির্যা/তন সইতে না পেরে আত্ম/হত্যা

ছবি শেয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন পাটওয়ারী

সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে উত্তাপ ছড়াবে সংসদ

১০

বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতা দেবে চীন

১১

একটা শক্তির উত্থান হচ্ছে, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

১২

পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি

১৩

নিখোঁজ তিন কিশোরী উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

১৪

যশোরে কৃষক দল নেতা মহসিন আলীকে শোকজ

১৫

ফের মা হলেন চিত্রনায়িকা বুবলী

১৬

দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মায় বাস পড়া নিয়ে যা বলল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

১৭

দীপিকার মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের অজানা গল্প শোনালেন প্রকাশ পাড়ুকোন

১৮

রাজনীতিকদের ‘হীন’ বানানোর চেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল

১৯

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে নিতে চায় তুরস্ক

২০